ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস ও মেঘনা নদীতে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী গঙ্গাস্নান। শনিবার (৫ এপ্রিল) চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভোর থেকেই জেলাজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো ভক্তপুণ্যার্থী সমবেত হন গোকর্নঘাট তিতাস নদীর তীরে।
বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন পবিত্র নদীতে স্নান করলে পাপ মোচন হয় এবং জীব ও জাতির কল্যাণ ঘটে—এই ভাবনা থেকেই ভক্তরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গঙ্গাস্নানে অংশ নেন।
ভক্ত মিঠুন দাস বলেন, “আজ অষ্টমী তিথিতে আমরা গঙ্গাস্নান করেছি। আমাদের বিশ্বাস, এতে পাপ মোচন হয়। আমরা দেশের মঙ্গল এবং জীবনের শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি।”
আরেক ভক্ত সম্পাশীল জানান, “প্রতিবছরই এই গঙ্গাস্নানে অংশ নিই। এখানে এসে পূণ্যলাভের আশায় স্নান করি এবং জাতির মঙ্গল কামনা করি।”
গঙ্গাস্নান পরিচালনা কমিটির সদস্য খোকন কান্তি আচার্য বলেন, “এই গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে শরীর ও মন পবিত্র হয়। নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি জাতির শান্তি এবং কল্যাণের জন্য ভক্তরা বিশেষ প্রার্থনা করেন।”
গঙ্গাস্নানকে কেন্দ্র করে তিতাস নদীর তীরে বসে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলা। মেলায় ছিল মুড়ি-চিড়া, মাঠা, মাটির খেলনা ও নানা ধরনের মনোহরী পণ্যের পসরা। দোকানিরা সকাল থেকেই জমিয়ে তোলেন তাদের দোকান।
এছাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের আজবপুর এলাকায় মেঘনা নদীতেও ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজারো পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন, গঙ্গাজলে স্নান করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মগ্ন হন তারা।
পবিত্র অষ্টমী তিথিতে গঙ্গাস্নান ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদীতীরবর্তী এলাকা।